খেলাধুলা

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় বাংলাদেশের

  দেশান্তর প্রতিবেদন ১৯ মার্চ ২০২২ , ৪:৩২:৫৭

২০ বছরে কয়েকবার দক্ষিণ আফ্রিকা সফর করলেও তিন ফরম্যাটে প্রাপ্তির খাতায় কিছুই ছিল না বাংলাদেশের। এবার অধরা জয়ের আশাতেই সফরে গিয়েছিল টিম টাইগার্স। আগের দলগুলো যা পারেনি, সেটাই করে দেখালো তামিম ইকবালরা নেতৃত্বাধীন দল। সেঞ্চুরিয়নে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৩৮ রানে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ।

এর আগে ৭ উইকেট হারিয়ে ৩১৪ রান করে টাইগাররা। এর জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকা ১০ উইকেটে ২৭৬ রান করে।

টাইগারদের দেয়া বিশাল রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে প্রোটিয়ারা। আর তাদের বিপদে ফেলেছেন পেসার তাসকিন আহমেদ। তিনি দলীয় অষ্টম ওভারের প্রথম ও চতুর্থ বলে উইকেট তুলে নেন। বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন পেসার শরিফুল ইসলাম। তিনি ওপেনার জানেমান মালানকে মাত্র ৪ রানে আউট করে দেন। ওই সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকার দলীয় রান ছিল ১৮।প্রোটিয়া শিবিরে দ্বিতীয় আঘাতটি হানেন তাসকিন দলীয় ৩৬ রানের মাথায়। এ সময় তিনি ওপেনার কাইল ভেরেন্নেকে এলবিডব্লিউ আউট করেন। এরপর এই ৩৬ রানের সময়ই এইডেন মাক্রামকে ক্যাচ আউট করেন। মাক্রামের ক্যাচটি দুর্দান্তভাবে তালুবন্দি করেন মেহেদি হাসান মিরাজ।এর পর জুটি গড়েন রাসি ফন ডার ডাসেন ও ডেভিড মিলার। তাদের বিপজ্জনক জুটিটেও ভাঙেন তাসকিন। এ জুটি ভাঙতে একের পর এক বোলার বদলাচ্ছিলেন তামিম ইকবাল । তাসকিনের অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের ছোড়া বল হাঁটু গেড়ে লেগে ঘুরান ফন ডার ডাসেন। আর ছুটে গিয়েই বলটি তালুবন্দি করেন ইয়াসির। আর এতে ভেঙে যায় ৭০ রানের জুটি। সর্বশেষ ৪০ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকার রান ৫ উইকেটে ১৯৯।

এর আগে প্রথম ম্যাচটিতে টাইগারদের হয়ে সর্বোচ্চ ৭৭ রান করেছেন সাকিব আল হাসান। অন্যদিকে সমান ৫০ রান করে করেছেন ইয়াসির আলী ও লিটন দাস।ম্যাচটিতে টসে হেরে ব্যাট করতে নামে টাইগাররা। শুরুতেই বাংলাদেশকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও লিটন দাস। তারা ওপেনিং জুটিতে করেন ৯৫ রান। এরপর চতুর্থ উইকেটের জুটিতে দলের রানের খাতায় ১১৫ রান যোগ করেন সাকিব আল হাসান ও ইয়াসির আলী।তামিম দলীয় ৯৫ রানের সময় ৬৭ বল খেলে ৪১ রান করে আউট হন। এরপর লিটন দাস হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেই সাজঘরে ফেরেন। তিনি আউট হন দলীয় ১০৫ রানের সময়।পর পর দুটি উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে বাংলাদেশ। সেই চাপ আরও বাড়ে যখন দলীয় ১২৪ রানের সময় মুশফিকুর রহিম মাত্র ৯ রান করে আউট হন।কিন্তু এরপরই দলের হাল ধরেন সাকিব আল হাসান ও ইয়াসির আলী। তারা দুইজন মিলে রানের সংখ্যা বাড়াতে থাকেন।

সাকিব থামেন দলীয় ২৩৯ রানের মাথায়। সাকিব বিদায় নেওয়ার পর ইয়াসিরও দ্রুতই সাজঘরে ফেরেন। তিনি ২৩৪ রানের সময় আউট হন।সাকিব ও ইয়াসির আউট হওয়ার আগে বাংলাদেশ বড় সংগ্রহের দিকেই আগাচ্ছিল। কিন্তু তারা দুইজন কম সময়ের মধ্যে আউট হয়ে যাওয়ার পর রানের গতি কিছুটা কমে যায়। কিন্তু লোয়ার অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা শেষ দিকে দ্রুত রান তুলে বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জিং স্কোর এনে দেন।শেষ দিকে ব্যাট করতে নামা মেহেদি হাসান মিরাজ ১৩ বল খেলে ১৯ রান করেন। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ১৭ বল খেলে ২৫ রান করেন। তাছাড়া আফিফ ১৩ বলে ১৭ ও তাসকিন ৫ বলে ৭ রান করেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ডঃ

টস: দক্ষিণ আফ্রিকাবাংলাদেশ: ৩১৪/৭, ৫০ ওভার (সাকিব আল হাসান ৭৭, লিটন দাস ৫০, ইয়াসির আলি রাব্বি ৫০, তামিম ইকবাল ৪১, মাহমুদউল্লাহ ২৫, মিরাজ ১৯*; মার্কো জানসেন ২/৫৭, কেশভ মাহারাজ ২/৫৬, রাবাদা ১/৫৭)।

দক্ষিণ আফ্রিকা: ২৭৬/১০, ৪৮.৫ ওভার (রাশি ফন ডার ডুসেন ৮৬, ডেভিড মিলার ৭৯, টেম্বা বাভুমা ৩১, কাইল ভেরাইনি ২১, কেশভ মারাহাজ ২৩, লুঙ্গি এনগিদি ১৫*; মেহেদী হাসান মিরাজ ৪/৬১, তাসকিন আহমেদ ৩/৩৬, শরিফুল ২/৪৭, মাহমুদউল্লাহ ১/২৪)।

ফল: বাংলাদেশ ৩৮ রানে জয়ী।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: সাকিব আল হাসান।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরও খবর 170

Sponsered content