ধর্ম

খানা খাওয়ার আগের ও পরের দোয়া এবং করণীয়। (দৈনন্দিন আমল পর্ব-৫)

  দেশান্তর প্রতিবেদন ২৬ এপ্রিল ২০২১ , ১০:০৩:৫৭

এইচ এম জহিরুল ইসলাম মারুফঃ

মানব জীবনের অতি প্রয়োজনীয় বস্ত্ত হচ্ছে আহার ও পানীয়। জীবন ধারণের জন্য পানাহারের কোন বিকল্প নেই। খাদ্য-পানীয় মানুষের দেহ-মন সুস্থ ও সতেজ রাখার প্রধান উপকরণ। পানাহারের অভাবে মানুষের শরীর ভেঙ্গে যায় এবং দুর্বল ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে। ইবাদতে মন বসে না এবং কোন কাজে স্বতঃস্ফূর্ততা থাকে না। তাই খাদ্য-পানীয় মানুষের জন্য অতি জরুরী । তবে এ খাদ্য-পানীয় হালাল হওয়া আবশ্যক।

<<>>খানা খাওয়ার শুরুতে এই দোয়া পড়তে হয়—-
بِسْمِ اللّهِ وَ عَلى بَرَكَةِ اللهِ উচ্চারণঃ- বিস্মিল্লাহি ও‘আলা বারাকাতিল্লাহ

অর্থ : আল্লাহর নামে তাঁর বরকতের প্রত্যাশায় শুরু করলাম।

<<>> খানা খাওয়ার শুরুতে দোয়া পড়তে ভুরে গেলে খানার মাঝে স্মরণ আসার পর এই দোয়া পড়তে হয়—-
بِسْمِ اللهِ أَوَّلَه وَآخِرَه উচ্চারণঃ- বিসমিল্লাহি আউয়্যালাহু ওয়া আখীরাহ।
অর্থ: আমি আল্লাহ তায়ালার নামে খানা খাওয়া শুরু করছি। প্রথমেও আল্লাহ তায়ালার নাম, পরিশষেও আল্লাহ তায়ালার নাম। (সূত্র-আবু দাউদ, আহমদ, দারেমী)।

<<>> খানা খাওয়ার শেষে এই দোয়া পড়তে হয়—-
اَلْحَمْدُ لِلّهِ الَّذِيْ اَطْعَمَنَا وَ سَقَانَا وَ جَعَلَنَا مِنَ الْمُسْلِمِيْن.
উচ্চারণঃ- আলহামদুলিল্লাহিল্লাজী আতআ‘মানা ওয়া ছাক্বানা ওয়া জাআলানা মিনাল মুসলিমীন।

অর্থ : সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের খাইয়েছেন, পান করিয়েছেন এবং মুসলিম বানিয়েছেন

<<>> দাওয়াত খাওয়ার পর এই দোয়া পড়তে হয়—-
اَللّهُمَّ اَطْعِمْ مَنْ اَطْعَمَنِيْ وَ اَسْقِ مَنْ سَقَانِيْ
উচ্চারণঃ- আল্লাহুম্মা আতঈম মান আত‘আামনী ওয়া আস্কী মান সাকানী

<>কিছু করণীয় ও আদব(শিষ্টাচার)…….

#খাবার গ্রহণের আগে ও পরে হাত ধোয়া আবশ্যক।
না হয় বিভিন্ন ধরনের অসুখ দেখা দিতে পারে। রাসুল (সা.) পানাহারের আগে এবং পরে উভয় হাত কব্জি পর্যন্ত ধোয়ার আদেশ করেছেন। (সূত্র- মুসনাদে আহমাদ ও ইবনে মাজাহ)

# দস্তরখান বিছিয়ে খাবার খাওয়া।
(সূত্র-বোখারী শরীফ : হাদীস নং ৫৩৮৬)

#খাবার শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ ও শেষে ‘আলহামদুল্লিাহ’ বলা।

#গরম খাবার ঠান্ডা হ’লে খেতে শুরু করা।

#দাঁড়িয়ে পানাহার না করা।

#ডান হাত দিয়ে খাওয়া।
রাসুল (সা.) আজীবন ডান হাত দিয়ে খাবার খেয়েছেন। বাম হাত দিয়ে খাবার খেতে নিষেধ করেছেন তিনি।কেননা শয়তান বাম হাতে খায় ও পান করে।(তবে একান্ত প্রয়োজন হলে বাম হাতে খেতে পারবে,যেমন ডানহাত না থাকলে) ’ ( সূত্র-বুখারী, হাদিস নং: ৫৩৭৬; মুসলিম, হাদিস নং: ২০২২)

#কাশি, হাঁচি খাওয়ার সময় আসতেই পারে। অবশ্যই মুখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে নেবেন। এ সময় মুখে হাত বা রুমাল দেওয়াটাও বাধ্যতামূলক।
নাহলে অন্যের কষ্ট হতে পারে।

#হাত চেটে খাওয়া।
রাসুল (সা.) খাওয়ার সময় সর্বদা হাত চেটে খেতেন। ’ (বুখারি, হাদিস নং : ৫২৪৫)

#পড়ে যাওয়া খাবার তুলে খাওয়া।
খাবার গ্রহণের সময় কখনো কখনো প্লেট থেকে এক-দুইটি ভাত, রুটির টুকরো কিংবা অন্য কোনো খাবার পড়ে যায়। সম্ভব হলে এগুলো তুলে পরিচ্ছন্ন করে খাওয়া।
(সূত্র-তিরমিজি, হাদিস নং : ১৯১৫; ইবনে মাজাহ, হাদিস নং : ৩৪০৩)

#হেলান দিয়ে না খাওয়া
কোনো কিছুর ওপর হেলান দিয়ে খাবার খেতে তিনি নিষেধ করেছেন। হেলান দিয়ে খাবার খেলে পেট বড় হয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে দাম্ভিকতা প্রকাশ পায়। (সূত্র-বুখারি, হাদিস নং: ৫১৯০; তিরমিজি, হাদিস নং: ১৯৮৬)

#খাবারের দোষ-ত্রুটি না ধরা।
শত চেষ্টা সত্ত্বেও খাবারে দোষ-ত্রুটি থেকে যাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু এ নিয়ে পরিবারের সঙ্গে ঝগড়াঝাটি করা নিতান্ত বেমানান। রাসুল (সা.) কখনো খাবারের দোষ ধরতেন না।পছন্দ হলে খেতেন, আর অপছন্দ হলে খেতেন না। (সূত্র-বুখারি, হাদিস নং : ৫১৯৮; ইবনে মাজাহ, হাদিস নং : ৩৩৮২)

#খাবারে ফুঁ না দেওয়া
খাবার ও পানীয়তে ফুঁ দেওয়ার কারণে অনেক ধরনের রোগ হতে পারে। (সূত্র-ইবনে মাজাহ, হাদিস নং : ৩৪১৩)
#খাবার ডান দিক থেকে খাওয়া।
#ছোটছোট লোকমা দিয়ে খাওয়া।
#ভাঙ্গা পাত্রে না খাওয়া।

আল্লাহ তায়ালা তার ফজল ও করমে, দয়া ও অনুগ্রহে আমাদের সকলকে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই শিক্ষা এবং অন্যসকল শিক্ষার ওপর আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরও খবর 15

Sponsered content