ফিচার

হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ ইন্দারা

  দেশান্তর প্রতিবেদন ১৯ এপ্রিল ২০২১ , ১২:১৫:৪৬

হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ ইন্দারা

পানির অপর নাম জীবন। আর এই পানি সংগ্রহ ও সংরক্ষণের জন্য পৃথিবীর শুরু থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ নানা ধরণের পদ্ধতি অবিস্কার করে চলেছে। তার মধ্যে ইন্দারা বা কূয়া অন্যতম। কিন্তু বর্তমানে টিউবওয়েল, গভীর নলকূপ, বিদ্যুৎচালিত মটর ইত্যাদি ব্যবহার করে মানুষ খাবার পানি সংগ্রহ করছে। আর তাই কালের বিবর্তনে হারাতে বসেছে গ্রামীণ এ ঐতিহ্যবাহী ইন্দারা। একটা সময় মানুষ মাটি খুঁড়ে পানি উত্তোলন করতো। সে সময় বরেন্দ্র অঞ্চলসহ সারা দেশে-বিদেশে বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ বিভিন্ন মডেলে কুদাল দিয়ে মাটি খুঁড়ে ইট, সুড়কি, চুন অথবা সিমেন্ট দিয়ে তৈরি করতো চাক। আর তা ব্যবহার করে বানানো হতো পানি উত্তোলনের জন্য কূয়া বা ইন্দারা। তখনকার দিনে সেই কূয়া থেকে পানি উত্তোলনের জন্য লোকজন ব্যবহার করত বালতি বা পাতিল। যাতে দড়ি বেঁধে কূয়ায় ফেলে পানি উত্তোলন করা হতো।কালের বিবর্তনে গ্রামীণ মানুষের কাছে গত শতাব্দী পর্যন্ত জনপ্রিয় হয়েছিলো ইন্দারা। ঐতিহ্যবাহী ইন্দারা দেখতে কূয়ার মতো হলেও এর উপরে থাকে ঢাকনা। পানি উত্তোলনের কাজে ব্যবহার করা হয় পাইপ এবং দড়ি।

এছাড়াও ইন্দারার উপরে লাগানো থাকে একটি লোহার চাকা। এই মাধ্যমে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ইন্দারা দিয়ে পানি উঠাতো লোকজন। একটি ইন্দারা তৈরিতে অনেক অর্থ ও জায়গার প্রয়োজন হতো। কিন্তু কালের বিবর্তনে হারাতে বসেছে সেই গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী ইন্দারা।

ঐতিহ্যবাহী ইন্দারা রক্ষায় রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. জামাত খান জানান, বরেন্দ্র অঞ্চলর বিভিন্ন স্থানে এখন অনেক প্রাচীন ইন্দারা রয়েছে। মহানগরীতেও এমন ইন্দারা রয়েছে। এগুলো সংরক্ষণ করা গেলে এ অঞ্চলের প্রাচীন ইতিহাসকে সংরক্ষণ করা যেত।

হেরিটেজ রাজশাহীর সভাপতি মাহবুব সিদ্দিকী জানান, ইন্দারার পানি খুব পরিস্কার। এই পানিতে আয়রণ বা আর্সেনিকের কোন সমস্যা ছিলো না। শত শত বছর ধরে খুব সহজেই সাধারণ মানুষ ইন্দারার পানি সুপেয় পানি হিসেবে পান করতো। কিন্তু এখন ইন্দারা আর দেখা যায় না। বরেন্দ্র অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে যেগুলো আছে সেগুলো এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। প্রাচীন ঐতিহ্য ধরে রাখতে এগুলো সংরক্ষণ করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরও খবর 16

Sponsered content