সারা বাংলা

জীবনের প্রথম ভোট নৌকায় দেয়ার আহবান সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর

  দেশান্তর প্রতিবেদন ৮ নভেম্বর ২০২২ , ৩:৪৬:৪৮

‍‍‍‍‍‍‍‍তরুণ প্রজন্ম ও নবীন ভোটারদেরকে জীবনের প্রথম ভোট নৌকায় দেয়ার আহবান জানিয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি।

প্রতিমন্ত্রী আজ সকালে মৌলভীবাজার জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় ও বাংলা একাডেমির সহযোগিতায় জেলা প্রশাসন মৌলভীবাজার আয়োজিত দুই দিনব্যাপী (৮-৯ নভেম্বর) ‘মৌলভীবাজার জেলা সাহিত্যমেলা ২০২২’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহবান জানান।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, নৌকা হচ্ছে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। আর তাঁরই সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির শিখরে রয়েছে। এ উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে আগামী নির্বাচনে তরুণ প্রজন্মকে নৌকায় ভোট দেয়া জরুরি।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আবুল মনসুর এর সভাপতিত্বে ‘জেলা সাহিত্য মেলা মৌলভীবাজার ২০২২’ এর উদ্বোধন করেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য নেছার আহমদ।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তৃতা করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য অসীম কুমার উকিল এমপি। আরো আলোচনা করেন বাংলা একাডেমির পরিচালক নূরুন্নাহার খানম। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান,  জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ মিছবাহুর রহমান ও মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র মো: ফজলুর রহমান।

প্রধান অতিথি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক জেলা পর্যায়ের সাহিত্যিকদের সৃষ্টিকর্ম জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার লক্ষ্যে প্রথম বারের মতো দেশের ৬৪ জেলায় সাহিত্যমেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আগামী বছর উপজেলা পর্যায়ে সাহিত্যমেলা চালু করা হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের সকল উপজেলায় সাহিত্যমেলা অনুষ্ঠিত হবে।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, মৌলভীবাজার সাহিত্য-সংস্কৃতি সমৃদ্ধ একটি জেলা। এ জেলায় দেশবরেণ্য কবি-সাহিত্যিকের পাশাপাশি অনেক জ্ঞানী-গুণী মানুষ জন্মগ্রহণ করেছেন যাদের অনেকেই জাতির পিতার সান্নিধ্য লাভ করেছেন। কে এম খালিদ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী লীলা নাগের জন্ম মৌলভীবাজার জেলায় যিনি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তিনি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন তখন ৮৭৭ জন ছাত্রের বিপরীতে তিনি ছিলেন একমাত্র ছাত্রী। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীর সংখ্যা শতকরা ৪০ ভাগে উন্নীত হয়েছে। তিনি বলেন, মৌলভীবাজার জেলার আরেকজন বিখ্যাত সাহিত্যিক সৈয়দ মুজতবা আলী যিনি রম্য সাহিত্য ও ভ্রমণ কাহিনী লিখে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। এ ধরনের বহু লেখক-সাহিত্যেকের জন্ম হয়েছে এ জেলার পবিত্র মাটিতে।

উদ্বোধকের বক্তব্যে সংসদ সদস্য নেছার আহমদ বলেন, রাজনীতি ও সংস্কৃতির সুষম সমন্বয়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদের উৎপত্তি। সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চা মানুষকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে। জেলা সাহিত্যমেলার মাধ্যমে এ জেলা হতে  তরুণ, মেধাবী ও সৃজনশীল নতুন লেখক বের হয়ে আসবে মর্মে তিনি এসময় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সভাপতির বক্তব্যে সংস্কৃতি সচিব মোঃ আবুল মনসুর বলেন, এ বাংলায় (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে) ১৯৪৮ হতে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত নিয়মিত সাহিত্য সম্মেলন আয়োজিত হতো। এসব সম্মেলনে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবি হতে শুরু করে বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠার দাবি করা হয়। পরবর্তীতে সামরিক শাসনামলে তা বন্ধ হয়ে যায়। তিনি বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৪ সালে বাংলা একাডেমিতে প্রথম সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সে সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু কবি-সাহিত্যিকদের ‘মানবাত্মার সুদক্ষ প্রকৌশলী’ মর্মে অভিহিত করেন এবং কবি-সাহিত্যিকদের তাদের সৃষ্ট সাহিত্যকর্মে সাধারণ মানুষের জীবন, তাদের সুখ-দুঃখ ও হাসি-কান্না প্রতিফলনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তৃতা করেন মৌলভীবাজার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাসের রিকাবদার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি গোলাম মোস্তফা সুজন, প্রাবন্ধিক সৈয়দ মোহিবুল আমীন ও প্রাবন্ধিক মো. আব্দুল মতিন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মৌলভীবাজার জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক মিন্টু।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরও খবর 1

Sponsered content