fbpx

হারিয়ে যাচ্ছে রুপকথার গল্প

                                           
মোসফিকা আক্তার
প্রকাশ : সোমবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

রূপকথা হল ছোটগল্পের একটি ধরন, যাতে মূলত লোককথা ও ফ্যান্টাসি ধরনের চরিত্র, যেমন বামন, ড্রাগন(dragon), ক্ষুদ্র পরী, পরী(fairy), দৈত্য, যক্ষ, গবলিন, গ্রিফিন, মৎস্যকন্যা(mermaid), সবাক প্রাণী, ট্রোল, কাল্পনিক ঘোড়া(Unicorn), বা ডাইনি, এবং জাদু বা জাদুমন্ত্র তোলে ধরা হয়। রূপকথা অন্যান্য লোককাহিনী, যেমন কিংবদন্তি (এতে মূলত কোন ঘটনার সত্যনিষ্ঠার বিশ্বাসের ধারণা দেয় এবং প্রাণিদের ভাষ্যে উপকথামূলক নীতিকথা থেকে ভিন্ন হয়ে থাকে। এই শব্দটি দিয়ে প্রধানত ইউরোপীয় রীতির গল্প বর্ণিত হয়ে থাকে এবং সাম্প্রতিক শতাব্দীর গল্পসমূহ, বিশেষ করে শিশু সাহিত্যের সাথে জড়িত।সমসাময়িক সাহিত্যে অনেক লেখক বিভিন্ন কারণে রূপকথা ধরনটির ব্যবহার করেছেন। একটি কারণ হল রূপকথার সাধারণ কাঠামো থেকে মানবীয় অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা।

কয়েকজন লেখক সমসাময়িক আলোচনায় কাল্পনিক ভাবধারার পুনঃপ্রবর্তন করতে চেয়েছেন।কয়েকজন লেখক আধুনিক বিষয়ের ক্ষেত্রে রূপকথার ব্যবহার করে থাকেন;গল্পে দ্বিধাহীন মনস্তাত্ত্বিক নাট্যের ব্যবহার লক্ষ্য করা যায় যখন রবিন ম্যাককিনলি ডঙ্কিস্কিন গল্পটিকে তার ডিয়ারস্কিন উপন্যাসে কন্যার প্রতি বাবার অত্যাচারের গল্প পুনরায় বিবৃত করেন।মাঝে মাঝে, বিশেষ করে শিশু সাহিত্যে কমিক ভাব আনার জন্য রূপকথাসমূহে বাঁক যোগ করা হয়, যেমন জন শেশ্‌কা রচিত দ্য স্টিঙ্কি চিজ ম্যান অ্যান্ড আদার ফেয়ারি স্টুপিড টেল্‌স এবং ক্রিস পিলবিমের দি এএসবিও ফেয়ারি টেল্‌স।

একটি সাধারণ কমিক বিশেষত্ব হল রূপকথার ঘটনাবলী একটি কাল্পনিক জগতে ঘটে থাকে এবং গল্পের চরিত্রসমূহ তাদের ভূমিকার ব্যাপারে সচেতন,যেমন চলচ্চিত্র ধারাবাহিক শ্রেক।রূপকথা নাটকীয়ভাবে অভিনয়ের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়, এর প্রথম নথি পাওয়া যায় কমেদিয়া দেলার্তে-এ,এবং পরে পান্তোমিমে-এ।চলচ্চিত্রের উদ্ভাবের ফলে দেখা যায় যে এই গল্পগুলো আরও সঙ্গত উপায়ে, বিশেষ ইফেক্ট ও অ্যানিমেশন ব্যবহার করে, উপস্থাপন করা সম্ভব। রূপকথার গল্পগুলোকে চলচ্চিত্রে নির্মাণে নিয়ে আসার পিছনে দ্য ওয়াল্ট ডিজনি কোম্পানির ব্যাপক অবদান রয়েছে।

ডিজনি স্টুডিও থেকে নির্মিত প্রারম্ভিক সময়কালের কিছু স্বল্পদৈর্ঘ্য নির্বাক চলচ্চিত্র রূপকথার গল্প অবলম্বনে নির্মিত, এবং কিছু রূপকথা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে সঙ্গীতধর্মী হাস্যরসাত্মক ধারাবাহিক সিলি সিম্ফোনিজ, যেমন থ্রি লিটল পিগ্‌স (১৯৩৩) এ গৃহীত হয়। ওয়াল্ট ডিজনির প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র স্নো হোয়াইট অ্যান্ড দ্য সেভেন ডোয়ার্ফ্‌স ১৯৩৭ সালে মুক্তি পায় এবং রূপকথার ক্ষেত্রে রেকর্ড সৃষ্টিকারী চলচ্চিত্র হয়ে দাঁড়ায়।ডিজনি এবং তার পদাঙ্ক অনুসারী সৃজনশীল পরিচালকগণ এই ধরনের প্রথাগত ও সাহিত্যিক রূপকথার গল্প নিয়ে আরও কিছু চলচ্চিত্র নির্মাণ করে, যেমন সিনড্রেলা (১৯৫০), স্লিপিং বিউটি (১৯৫৯), এবং বিউটি অ্যান্ড দ্য বিস্ট (১৯৯১)।

ডিজনির প্রভাব রূপকথা ধরনটিকে শিশুতোষ ধরন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করে এবং অনেকেই উল্লেখ করেন রূপকথার সরলীকরণ ডিজনির অনেক পূর্বে হয়েছে, এর কিছু কিছু আবার গ্রিম ভ্রাতৃদ্বয় নিজেরাই করে গেছেন।অতি প্রাচীনকাল থেকেই আমরা আমাদের নানি দাদির কাছ থেকে শুনে এসেছি এইসব বাংলা রুপকথার গল্প । অনেক সময় এই ছোটদের গল্প গুলো ছিল সবার মুখে মুখে । কিন্তু আজকাল কালের বিবর্তনে এই শিশুদের গল্প গুলো প্রায়ই হারিয়ে যাচ্ছেরূপকথা ভালোবাসে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন মুরুব্বীদের মুখে ঠাকুরমার ঝুলি, গোপাল ভাঁড়ের ও নানান দেশের পরীর গল্প এছাড়া রাজা রানীর গল্প শুনতাম। সময়ের পরিবর্তনে এখন সব যেন হারিয়ে যাচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন


এই বিভাগ থেকে পড়ুন