fbpx
সংবাদ শিরোনাম
ফল প্রকাশে অটোমেশন প্রক্রিয়ার উদ্বোধন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ: ১ জনকে হলত্যাগ ও ২ জনের ছাত্রত্ব বাতিলের সুপারিশ শার্শায় ফসলি জমির মাটি বিক্রির সিন্ডিকেট বেপরোয়া, জড়িত খোদ ইউপি সদস্যরা পাইকগাছায় ঘূর্নিঝড় রেমালের প্রভাবে নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি : মারাত্মক ঝুঁকিতে ২টি ভেড়িবাঁধ স্বতন্ত্র বেতনস্কেল প্রবর্তনের দাবিতে নোবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন রাবিতে প্রথমবারের মতো ‘ইনোভেশন শোকেসিং’ অনুষ্ঠিত জবির ফিচার, কলাম অ্যান্ড কনটেন্ট রাইটার্সের নেতৃত্বে মুনতাহা-শাহরিয়ার উচ্চশিক্ষা নিয়ে রাবিতে সেমিনার অনুষ্ঠিত শ্রেষ্ঠ উদ্ভাবনী উদ্যোগের জন্য নির্বাচিত দপ্তর-সংস্থার মাঝে শিল্পমন্ত্রীর সনদ বিতরণ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বজনীন পেনশন নীতিমালা প্রত্যাহারের দাবিতে শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার ঢেঁকি

                                           
মোসফিকা আক্তার
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৮ এপ্রিল, ২০২১

বাঙ্গালির লোকজ ঐতিহ্যের সাথে জড়িত ধান ভানা ও চাল কোটার লিভার জাতীয় সরল যন্ত্র। ঢেঁকি ধান ভানা বা শস্য কোটার জন্য ব্যবহৃত যন্ত্রবিশেষ।

প্রাচীন কাল থেকে ভারত উপমহাদেশে ঢেঁকি ব্যবহার হয়ে আসছে। ঢেঁকি দ্বারা চালের ছাতু মাস কালাই এর ডাল ইত্যাদিও করা হয়।এক খন্ড পাথরের চটান বা কাঠ খন্ডে গর্ত খুঁড়ে মুষলের সাহায্যে শস্য কোটা হয়।মুসলটির মাথার লোহার পাত জড়ানো থাকে। মুষলটি৪/৫ হাত লম্বা একটি ভারী কাঠের আগার জোড়া লাগিয়ে গতি বরাবর মাপে দুটি শক্ত খুঁটির উপর পুঁতে রাখা হয়।

ও বউ ধান ভান রে ঢেঁকিতে পার দিয়া। ঢেঁকি পড়ে পল্লিবধূদের এমন গান বাংলার গ্রামীণ জনপদে সবার মুখে মুখে থাকত।ধান থেকে চাল তা থেকে আটা। এক সময় গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে ঢেঁকির প্রচলন থাকলেও বর্তমানে তা প্রায় বিলুপ্তির পথে মাঝে মধ্যে পাওয়া গেলে ও তা দুষ্কর হয়ে ওঠেছে। ঢেঁকিতে গ্রামের নারীরা ধান,চিড়া,চালের গুড়া,মশলাসহ নিত্য দিনের প্রয়োজনীয় নানান সামগ্রী তৈরি করতেন।

এক সময়ে চাল আর আটা প্রস্ততের একমাত্র মাধ্যম ছিল ঢেঁকি। নবান্ন এলেই ঢেঁকির পাড়ে ধুম পড়ত নতুন ধানের চাল ও আটা তৈরির আর শীতের পিঠা তৈরি চলত গ্রামের প্রায় সব বাড়িতে। তবে কালের বিবর্তনে প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে ঢেঁকি। আর নতুন প্রজন্নের কাছে ঢেঁকি শব্দটি শুধু অতীতের গল্প মাত্র। বাস্তবে এর দেখা মেলা ভার।দেশের দু-এক জায়গায় থাকলে ও ব্যবহার তেমন একটা নেই। আথির দশক থেকে ক্রমে বিলুপ্তির পথে ঢেঁকি।

ঢেঁকিতে তৈরি করা আটা দিয়ে ঘরে ঘরে প্রস্তত হতো পুলি,ভাপা,পাটিসাপটা, তেলে ভাজা, চিতহসহ নানা ধরনের বাহারি পিঠাপুলি।পিঠার গন্ধ ছাড়িয়ে পড়ত এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রাম। উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন করা হতো নবান্ন উৎসব। গ্রামীণ জনপদগুলোতে এখন বিরাজ করছে শহুরে আবেশ।তাই গ্রামে গ্রামে আর ঢেঁকি নেই। নেই পল্লিবধূদের মনমাতানো গান। কিছু জায়গায় নবান্ন উৎসব হলেও পিঠা পুলির সমাহার আর চোখে পড়ে না।গ্রামবাংলার এমন চিরাযুত সব ঐতিহ্য এখন শুধুই স্মৃতি।

ঢেঁকিছাঁঢা চাল শরীর ও স্বাস্হোর জন্য উপযোগী হওয়ার তা দিয়ে গ্রামের শিশুদের জডি তৈরি করে খায়ানো হতো। কিন্তু কাল চক্রের বিবর্তন ও যান্ত্রিক সভ্যাতার আগ্রাসনে হারিয়ে যাচ্ছে ধান থেকে চাল- আটা তৈরির একমাত্র মাধ্যম গ্রামীণ ঢেঁকি। সভ্যতার প্রয়োজনে ঢেঁকির আবির্ভাব ঘটেছিল। আবার গতিময় সভ্যতার যাত্রায় প্রযুক্তিগত উৎকর্ষে ঢেঁকি বিলুপ্তি হচ্ছে। একে না মেলে নিয়ে উপাই নেই। দেশের গ্রামগুলোতে ঘুরালে একটি ঢেঁকির দেখা মেলে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন


এই বিভাগ থেকে পড়ুন