fbpx

ভাণ্ডারিয়ায় খেজুর রসে হেমায়েতের সংসারে বইছে সুখের দোলা

                                           
মামুন হোসেন/পিরোজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : রবিবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২২

করোনা আইস্যা আমরে পথে বসিয়ে দিছে। এক টুকরো জমিতে সামান্য কৃষি (রবি শস্য) দিয়ে ছিলাম। তা বিক্রি করে কোন মতে এতোদিন সংসারটা টেনে টেনে চালিয়েছি। এখন খেজুর রস বিক্রি করে ভাল আয় করছি। জীবন সংসার চলছে এই রস বিক্রিতেই।

গেলো শনিবার (২৯ জানুয়ারী) ভোরে এ কথাগুলো বলেছেন, পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার উত্তর শিয়ালকাঠী গ্রামের মৃত আব্দুল কাদের শিকদারের ছেলে খেজুর রস বিক্রেতা হেমায়েত শিকদার (৫০)।

রস বিক্রেতা হেমায়েত শিকদার জানান, তিনি নিজেই পেশায় একজন কৃষক। সংসারের অভাব দুর করতে এবার শীতের মৌসুমে ২০ টি ছোট বড় খেজুর গাছ কাটেন তিনি। ওই গাছের ১৫ টি গ্রামের প্রতিবেশীদের। প্রতিবেশী গাছের মালিকদের রসের চাহিদা পুরণ করে যে খেজুর রস পাই তা প্রতি হাড়ি ১০০ টাকা হারে বিক্রি করি। খেজুর রস বিক্রি করে প্রতিদিন ১২ ‘শ থেকে ১৫ ‘শ টাকা আয় তার।

তিনি আরো জানান, খেজুর গাছ থেকেই টাটকা রস পেরে ক্রেতাদের সামনে তা বিক্রি করছি। তিনি খেজুর গাছ থেকে প্রতিদিন রাতে ও সকালে দুই বার খেজুর রস সংগ্রহ করেন। শীতের সকালে ও রাতে তার বাড়ী খেজুর রস নিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ ভীড় করছে। কিন্তু বাজারে ব্যাপক খেজুর রসের চাহিদা থাকায় রস সংগ্রের আগেই অনেকে এসে আগাম টাকা দিয়ে খেজুর রস নেয়ার বায়না চুক্তি করে যাচ্ছে। এতে তার অনেক সময় সমস্যায় পরতে হয়। রসের চাহিদা পুরনের জন্য আমি সারারাত খেজুর গাছের রসের হাড়ি পাড়ারা দিচ্ছি।

রাত জেগে পাহারার কারণ জানতে চাইলে হেমায়েত শিকদার বলেন, দুষ্ট শ্রেনির একদল যুবক রাতে আমার রস চুরি করে নিয়ে যায়। তাই তিনি সারারাত পাহারা দিচ্ছেন রস। এই রস বিক্রির উপার্জনের টাকা দিয়ে তিনি এক বিঘা ধানী জমি বর্গা নিয়ে তাতে এবার নতুন করে কৃষি কাজ শুরু করতে চান। স্থানীয় কৃষি বিভাগের সহযোগিতা চান কৃষক হেমায়েত শিকদার।

সহযোগিতা পেলে তিনি উপার্জন করে স্ত্রী, সন্তান, ছেলের বউ ও নাতি-নাতনি মিলে পরিবারের ৫ সদস্যের ভরণপোষণ চালাতে সক্ষম হবে বলে তিনি জানান ।

সংবাদটি শেয়ার করুন


এই বিভাগ থেকে পড়ুন