fbpx
সংবাদ শিরোনাম
মেহেরপুরের সাহিত্যিক মোঃ নুর হোসেন শব্দ কথায় সৃষ্টি করে চলেছেন সাহিত্যের নানান আদিত্য তাকবিরে তাশরিক কখন কিভাবে? সূনয়না বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি জয়নাল,সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত  Making The World A Better Place স্লোগানে তরুণ নেতৃত্ব তৈরি করছে  ইউপিজি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের উন্নয়নে নতুন করে পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসেছে- শিল্পমন্ত্রী বেনাপোলে দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কর্মশালা অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্ব সকল স্বার্থের উর্ধ্বে – পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী পাইকগাছায় উপজেলা নির্বাচনে বিজয়ী হলেন যারা উত্তরা আজমপুরে ডিএনসিসি’র উচ্ছেদ অভিযান; নেতৃত্বে মেয়র মোঃ আতিকুল ইসলাম

বাংলাবান্ধা বন্দরে নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগ

                                           
মোঃএনামুল হক
প্রকাশ : রবিবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

দেশের একমাত্র চতুর্দেশীয়স্হল বন্দর বাংলাবান্ধায় সিকিউরিটি গার্ড নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। বাংলাবান্ধা ল্যান্ডপোর্ট লিমিটেডের এক কর্মকর্তা ও এক কর্মচারী এই ঘুষ লেনদেন করেছেন।

এ নিয়ে কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন মহেন্দ্রনাথ রায় নামে এক সিকিউরিটি গার্ড। গত ৪ ফ্রেব্রুয়ারী তার অভিযোগের পর বিষয়টি জানাজানি হয়। তিনি চাকুরিচ্যুত হয়েছেন।

অভিযোগে জানা যায়, স্থলবন্দরে সিকিউরিটি নিয়োগের সময় বাংলাবান্ধা ল্যান্ডপোর্ট লিমিটেডের প্রশাসন ও হিসাব বিভাগের সহকারি ব্যবস্থাপক গোলাম হাফিজকে মহেন্দ্রনাথ ৯ জন সিকিউরিটি গার্ড নিয়োগের জন্য ৩ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা ঘুষ প্রদান করে।

ওই নয়জন সিকিউরিটি গার্ড হচ্ছেন শ্যামল, রিপন, সাগর,আনিত্য, কৃষ্ণ, শান্ত , সুমন, স্বপন ও আব্দুল করিম। তারা প্রত্যেকে ২৫-৫০ হাজার টাকা ঘুষ প্রদান করেন। এই টাকা তিনি ওই কর্মকর্তাকে প্রদান করেন।

অন্যদিকে ল্যান্ডপোর্ট কর্তৃপক্ষ বলছে ওই সিকিউরিটি গার্ডদের কাছে ঘুষ নিয়েছেন মহেন্দ্রনাথ রায়। মহেন্দ্রনাথ রায় কতৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। এ জন্য তাঁকে চাকুরীচুত্যও করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে মহেন্দ্রনাথ রায় জানান, গোলাম হাফিজ বিভিন্ন কাজের জন্য বাড়িতে ডাকতেন। একদিন কয়েকজন সিকিউরিটি গার্ড নিয়োগের কথা বলেন। প্রার্থী থাকলে টাকা দিয়ে তার সাথে যোগাযোগ করতে বলেন।

আমার এলাকার কিছু আগ্রহী ছেলের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আমি উনাকে দেই। উনি প্রতিজন সিকিউরিটি গার্ডের জন্য আমাকে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা দিতেন। নিয়োগের বিষয়টি গোলাম হাফিজ আমাকে অফিসের কাউকে না জানানোর জন্য গোপন রাখতে বলেন।

কিন্তু বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে ল্যান্ডপোর্ট কর্তৃপক্ষ আমাকে চাকুরীচ্যুতির ধমক দিয়ে স্বীকারোক্তি লিখিয়ে নেন।

অন্যদিকে গোলাম হাফিজ জানান, সিকিউরিটি গার্ডদের কাছ থেকে ঘুষের বিষয়টি জানাজানি হলে আমি মহেন্দ্রনাথকে টাকা ফেরতের জন্য চাপ দেই। সে আরও নানা অনিয়মের সাথে জড়িয়ে পড়ে। বিষয়গুলি জানতে পেরে কর্তৃপক্ষকে জানাই। এ জন্য সে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে।

জানা যায়, বাংলাবান্ধা ল্যান্ডপোর্ট লিমিটেডের অধীনে ১৫ জন সিকিউরিটি গার্ড বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন। এদের মধ্যে অনেকেই ঘুষ দিয়ে চাকুরী নিয়েছেন। তারা জানান মহেন্দ্র ল্যান্ডপোর্ট লিমিটেড কর্তৃপক্ষের নাম করে এই টাকা নিয়েছেন। তবে কর্তৃপক্ষের কে এই টাকা নিয়েছে তারা তা জানেনা।

এ ব্যাপারে সিকিউরিটি গার্ড কৃষ্ণকান্ত রায় জানান, আমি দরিদ্র ঘরের সন্তান। মহেন্দ্রনাথ রায় আমার এলাকা দিনাজপুরের সেতাবগঞ্জ বোচাগঞ্জ উপজেলার ছেলে । তিনি আমাকে সিকিউরিটি গার্ড পদে চাকুরি দিবে বলে ৩০ হাজার টাকা নেন।

টাকা নেয়ার সময় তিনি বলেন বাংলাবান্ধা ল্যান্ডপোর্ট কর্তৃপক্ষের এক অফিসারকে এই টাকা দিতে হবে। আমি চাকুরী পাবার আশায় এই টাকা দিয়েছি।

বাংলাবান্ধা ল্যান্ডপোর্ট লিমিটেডের পোর্ট ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ জানান, সিকিউরিটি গার্ড নিয়োগে মহেন্দ্র বিভিন্নজনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। আমরা তা নিশ্চিত হয়েছি। এ ব্যাপারে তিনি স্বীকারোক্তিও দিয়েছেন।

পরে হঠাৎ করে তিনি বাংলাবান্ধা ল্যান্ডপোর্ট লিমিটেডের এক কর্মকর্তার নামে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ এনেছেন। একটি পক্ষ ষড়যন্ত্র করে এই অভিযোগটি করিয়েছেন মনে হচ্ছে। তারপরও আমরা তদন্ত করছি।

সংবাদটি শেয়ার করুন


এই বিভাগ থেকে পড়ুন