fbpx

পঞ্চগড়ে কবরস্থান থেকে ১৪ কঙ্কাল চুরি!

                                           
মোঃএনামুল হক, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : শনিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২২

পঞ্চগড়ের বোদায় কবরস্থান থেকে ১২টি লাশ চুরি যাওয়ার পরের দিন আবারো ১৪ টি লাশের কংকাল চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটে বুধবার (২৬ জানুয়ারি) বোদা উপজেলার সাকোয়া ইউনিয়নের কইকিল্লা গোরস্থানে। এ দিকে ঘটনাটি জানা জানি হলে মুহূর্তে  উৎসুক মানুষের উপচেপড়া ভীড় লক্ষ করা যায়। এনিয়ে এলাকায় বিরাজ করছে ক্ষোভের।
খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক মো.জহুরুল ইসলাম, পঞ্চগড় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত সম্রাট ও বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোলেমান আলী ,বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ চৌধুরী ঘটনাস্থাল পরিদর্শন করেন। এই উপজেলার দুটি স্থানে পর পর দুটি ঘটনায় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে।
এলাকাবাসি সূত্রে  জানাযায়, ওই এলাকায় বুধবার সকালে কয়েকটি কুকুর একটি কবরের পাশে ঘুড়াঘুড়ি করতে দেখলে স্থানীয় এক ব্যক্তি সে কবরের পাশে গিয়ে দেখেন কবরের মাটি সরানো ও মাঝের বাঁশ গুলো অন্যত্র রাখা দেখতে পান। তাৎক্ষনিক বিষয়টি লোকমূখে স্থানীয়দের কাছে ছড়িয়ে পরে। খবর পেয়ে স্বজনেরা ওই গোরস্থানে দাফন করা আত্মীয়দের কবর দেখতে আসেন। গোরস্থানের চারপাশে খবর নিয়ে দেখা যায় মছির উদ্দীন, আব্দুর রহমান ,মাহাবুব আলম ,নকিবুল,লিলিমা, আম্বিয়া খাতুনসহ ১৪টি কবরের মাটি এবং বাঁশ একই কায়দায় উঠানো হয়েছে।
ওই এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদীন ও মোজাফফর হোসেন জানান, পরপর দু দিনের ঘটনায় এলাকাবাসীদের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। তবে এভাবে চলতে থাকলে আমরা আমাদের স্বজনদের কিভাবে দাফন করবো। আমরা প্রশাসনের সহযোগীতা কামনা করছি।
সাকোয়া  ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সায়েদ জাহাঙ্গীর হাসান সবুজ জানান, খবর শুনে আমি ও সেখানে গিয়েছিলাম। কিছু কবরের মাটি ও বাঁশ বিচ্ছিন্ন ভাবে দেখা গেছে। প্রকৃত ঘটনা বোঝা যাচ্ছে না। তবে একটি পাঁকা কবরের দুটি কম্বল পাওয়া গেছে।
বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সাঈদ চৌধুরী জানান, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসি। এই ঘটনাটি অনেকদিন হতে চলে আসছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার সাথে যারাই জড়িত থাকনা কেন তাদের  ধরতে সোর্স লাগানো হয়েছে। প্রয়োজনে উন্নত তথ্য  প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।
বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোলেমান আলী জানান, আমি ঘটনাটি শুনে জেলা প্রশাসক জহুরুল ইসলাম স্যার ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই।   যেহেতু বিষয়টি স্পর্শকাতর সে কারনে অধিকতর তদন্তের প্রয়োজন। প্রার্থমিক ভাবে গোরস্থান কমিটিকে আইনের সহায়তা নিতে বলা হয়েছে। তাঁরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদনের করলে সে আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত নির্দেশ দিলে কবরের কি অবস্থা তা জানা যাবে।
উল্লেখ্য থাকে যে, এর আগে গত মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) একই উপজেলার চন্দনবাড়ী ইউনিয়নের সরকার পাড়া গ্রামের একটি পুরাতন কবরস্থান থেকে ১২টি লাশ চুরি যাওয়ার অভিযোগ করে স্থানীয়রা।
সংবাদটি শেয়ার করুন


এই বিভাগ থেকে পড়ুন