fbpx

নারীর ক্ষমতায়ন; বেনজির হোসেন নিশি

                                           
বেনজির হোসেন নিশি
প্রকাশ : রবিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২১
নারীর ক্ষমতায়ন; বেনজির হোসেন নিশি

নারীর ক্ষমতায়ন, ক্ষমতা জিনিসটা আপেক্ষিক। একজন নারীকে প্রথমে নিজেকে নিজে ক্ষমতাশালী করতে হবে। সেটা কিভাবে?

প্রথমে আমাকে চিন্তা করতে হবে আমি একজন মানুষ। আর একজন মানুষ হিসেবে আমার যে অধিকারটুকু-পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রের কাছে আমি প্রাপ্য তা আমাকে পেতে হবে। আমি যদি মানুষ হিসেবেই নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে না পারি তাহলে আমার জন্য যতই আইন করে দেয়া হোক না কেন কোন কিছুই কাজে আসবে না।

ক্ষমতা বা অধিকার কেউ কাউকে দিয়ে যায় না। রাষ্ট্র তার দায়িত্ব ও কর্তব্যের জায়গা থেকে কিছু আইন প্রণয়ন করে থাকে।

অধিকার যেমন আদায় করে নিতে হয়। নারীর ক্ষমতা জায়গাটিও অনেকটা কাছাকাছি।

বক্তৃতা-বিবৃতিতে শুধু নারীকে ক্ষমতায়িত করলে হবে না পাশাপাশি সমাজকেও বদলাতে হবে। সমাজকে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে মানুষের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে।

একজন নারী কিন্তু বহুরূপী।

তাদের বিভিন্নভাবে উপস্থাপন করা যায় একসময় শিশু অর্থাৎ কন্যাশিশু, মেয়ে, কিশোরী মেয়ে, তরুণী, স্ত্রী, মা, মাঝবয়সী নারী এবং বৃদ্ধা। এই যে ধাপগুলো প্রত্যেকটি ধাপের আলাদা আলাদা পরিচয় এবং আলাদা আলাদা সামাজিক অবস্থান রয়েছে।

এখন প্রশ্ন হলো এই ধাপগুলোতে তাকে সুরক্ষা দিবে কে?

শারীরিক গঠনগত কারনেই পুরুষের তুলনায় নারীর সমাজ বা রাষ্ট্রের কাছ থেকে কিছু সুরক্ষা প্রাপ্য হয়েই থাকে।

ধর্মীয়ভাবেও সেই বিষয়গুলো পরিষ্কার করা রয়েছে। শুধু ইসলাম ধর্ম নয় সব ধর্মই এ বিষয়ে বলা আছে।

তাই ক্ষমতায়ন বলতে শুধু নারীকে 33% কোঠা দিয়ে সংরক্ষিত আসনে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সংসদে এমপি বা ইউনিয়ন পরিষদে সদস্য করা নয়। নারীর ক্ষমতায়ন এক কথায় বলতে গেলে নারীকেই করতে হবে। এবং সেটা হচ্ছে প্রত্যেকটি নারীকে নিজের ভেতরের যে শক্তি টা রয়েছে সেটা জাগিয়ে তুলতে হবে এবং মানুষ পরিচয়টা কে সামনে নিয়ে আসতে হবে।

কাগজে আইন কেউ মানতেও পারে আবার নাও মানতে পারে। আইনের দিকে তাকিয়ে না থেকে নিজের দিকে তাকাতে হবে।

ডিজিটাল মার্কেটিং ও ই-ফ্রিল্যান্সিং

 

আমরা যদি আমাদের ভিতরের শক্তিকে জাগিয়ে তুলে মেরুদন্ড সোজা করে বলতে পারি আমরা এই সমাজের। আমাদের দ্বারা এই সমাজ গড়ে উঠেছে। এই পৃথিবীর, এই সভ্যতার সমান অংশীদার আমরাও।

প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পুরুষের পাশে নারীরা ছিল বলেই সমাজ গড়ে উঠেছে সভ্যতা এগিয়ে গেছে।

এই সমাজের নির্মাতা অংশীদার হিসেবে তাই প্রত্যেকটি নারীর রয়েছে মানুষ হিসেবে আত্মপরিচয়। রয়েছে অধিকার আর সেই অধিকার টুকু প্রাপ্য হলেই নারী-পুরুষের বৈষম্য দূর হবে।

নারী নেতৃত্বের জন্য আজও রাজনীতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। রাজনীতির মাঠে নারীকে এখনো তার সঠিক অবস্থান দেয়া হয় না।

রাজনীতি মাসেল পাওয়ার নয় সেটা এখনো অনেক মানুষের মধ্যেই বোধ জাগ্রত হয়।

তাই শারীরিক গঠনের ভিন্নতার কারণে শুধু রাজনীতি নয় সব ক্ষেত্রেই নারীকে ভিন্নভাবে চিন্তা করা হয় এবং উপস্থাপন করা হয়।

আমরা ভুলে যাই যে রাজনীতি করতে হয় মেধা দিয়ে রাজনীতি করতে হয় মনন দিয়ে, শরীর দিয়ে নয়।

আমাদের মাথা থেকে যখন নারী-পুরুষের ভেদাভেদের চিন্তায় দূর হবে কেবলমাত্র তখনই নারীদের রাজনীতিতে চলার পথ মসৃণ হবে।

নারীদের দেশের রাজনীতিতে একটি নিজস্ব অবস্থান আজও তৈরি হয়।

 

নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর দৃষ্টান্ত

 

সমাজ এবং সভ্যতার পরিবর্তনে নারীর প্রয়োজন কতটুকু তা সঠিকভাবে উপস্থাপনে আজও নারীরা ব্যর্থ!

নারীদের সঠিক মূল্যায়নের কথা আসলেই নজরুলের দুই লাইন কবিতা আর নারীকে খারাপ ভাবে উপস্থাপনের উদাহরণ প্রয়োজন হলে ট্রয় নগরী ধ্বংস ডেকে আনা হয় বক্তৃতার মঞ্চে। কিন্তু একজন নারী একটি সমাজকে একটি রাষ্ট্রকে পরিবর্তনে কতটা ভূমিকা রাখতে পারেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জীবন দর্শন পর্যালোচনা করলেই তা পরিষ্কার হয়ে উঠবে।

আজকে যদি নারীরা তাদের পরিবারের পুরুষ সদস্যদের জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসে তাহলে এই দেশ থেকে তিন মাসের মধ্যে দুর্নীতি নির্মূল হয়ে যাবে।

কোন সংস্থার প্রয়োজন হবে না।

নারীদেরকে চলমান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করেই আগামীর পথে দৃপ্ত পায়ে এগিয়ে চলতে হবে।

রবীন্দ্রনাথের কথায় শেষ করতে হয় “মানুষ তো সবার ঘরে জন্মায় মনুষত্ব সবার হয় না।”

তাই আমাদের সমাজে মনুষ্যত্ব বোধ জাগ্রত করতে হবে। তবেই সমাজ থেকে বৈষম্য লোপ পাবে নারী-পুরুষের ভেদাভেদ থাকবে না।

লেখকঃ বেনজির হোসেন নিশি/ যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ / শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সংবাদটি শেয়ার করুন


এই বিভাগ থেকে পড়ুন