fbpx
সংবাদ শিরোনাম
ফল প্রকাশে অটোমেশন প্রক্রিয়ার উদ্বোধন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ: ১ জনকে হলত্যাগ ও ২ জনের ছাত্রত্ব বাতিলের সুপারিশ শার্শায় ফসলি জমির মাটি বিক্রির সিন্ডিকেট বেপরোয়া, জড়িত খোদ ইউপি সদস্যরা পাইকগাছায় ঘূর্নিঝড় রেমালের প্রভাবে নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি : মারাত্মক ঝুঁকিতে ২টি ভেড়িবাঁধ স্বতন্ত্র বেতনস্কেল প্রবর্তনের দাবিতে নোবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন রাবিতে প্রথমবারের মতো ‘ইনোভেশন শোকেসিং’ অনুষ্ঠিত জবির ফিচার, কলাম অ্যান্ড কনটেন্ট রাইটার্সের নেতৃত্বে মুনতাহা-শাহরিয়ার উচ্চশিক্ষা নিয়ে রাবিতে সেমিনার অনুষ্ঠিত শ্রেষ্ঠ উদ্ভাবনী উদ্যোগের জন্য নির্বাচিত দপ্তর-সংস্থার মাঝে শিল্পমন্ত্রীর সনদ বিতরণ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বজনীন পেনশন নীতিমালা প্রত্যাহারের দাবিতে শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন

কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে এক সময়ের গ্রামীণ সমাজের সন্ধ্যবাতি হারিকেন

                                           
মোসফিকা আক্তার
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল, ২০২১

মোসফিকা আক্তারঃ লাল নিল বাতি দেইখা পরান জুড়ায়ছে, ঢাকা শহর আইসা আমার আশা পুরাইছে’। এ গানের অর্থ বুঝা যায় আজ থেকে ৫০ বছর আগে যখন গ্রাম গঞ্জে বিদ্যুৎ ছিল না। গ্রামের মানুষ শহরে বেড়াতে গেলে বৈদ্যুতিক আলো দেখে অবাক হয়ে যেত।

প্রথম হারিকেনের বর্ণনা পাওয়া যায় আল রাযী-র বই ‘কিতাব আল আছা’য় যেখানে তিনি একে ‘নাফতা’ বলে উল্লেখ করেন। হারিকেন টিনের তৈরি কাচের চিমনি বিশিষ্ট প্রদীপ। আনারসের মতো গোলাকার কাচের চিমনির নিচের অংশে টিনের তৈরি তেলের ট্যাংক থাকত, যার ভেতরে ঢালা হতো কেরোসিন তেল। পেঁচানো রশি দিয়ে বানানো হতো রেশা, এর এক চতুর্থাংশ তেলের ট্যাংকটিতে চুবানো হতো আর বাকি অংশ থাকত কাচের ওপরে।

দিয়াশলাই দিয়ে এই অংশটিতে আগুন জ্বালালেই আলো ছড়াত হারিকেন। হারিকেনের পাশে থাকা রেগুলেটর দিয়ে আলো কমানো-বাড়ানো হতো। ওপরে টিন অথবা স্টিলের তার দিয়ে বহনযোগ্য করে তোলা হতো হারিকেন বাতি। হারিকেনের কেরোসিন তেল রাখার জন্য গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই ছিল বিশেষ ধরনের কাচের ও প্লাস্টিকের বোতল। বোতলের গলায় রশি লাগিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হতো বাঁশের খুঁটিতে। সন্ধ্যাবেলা হারিকেনের কাচের চিমনি খুলে, ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করে কেরোসিন তেল ঢেলে রেশার মধ্যে দিয়াশলাই দিয়ে আগুন জ্বালানো হতো।

এখনো গ্রামের দু-একটি বাড়িতে হারিকেন পাওয়া যেতে পারে, সেগুলো হয়তো ময়লা ও মরিচা পড়ে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ঘরে ঘরে, রাস্তা-ঘাটে, হাট-বাজারে এখন বৈদ্যুতিক আলোর ঝলকানি। প্রযুক্তির উৎকর্ষে হারিকেনের পরিবর্তে স্থান করে নিয়েছে পল্লীবিদ্যুৎ, সোলারপ্লান্ট এবং চার্জারলাইট। তাপ বিদ্যুৎ, জল বিদ্যুৎ সৌর বিদ্যুৎসহ জ্বালানিখাতে ব্যাপক উন্নয়নে হারিকেন বিলুপ্তির পথে। নতুন প্রজন্ম হয়তো জানবেও না হারিকেন কী আর হারিকেন নিয়ে মানুষের স্মৃতিকাতরতার তাৎপর্য।

একটা সময় ছিল যখন গ্রামাঞ্চলের প্রতিটি বাড়িতে হারিকেন দেখা যেত। তখন হারিকেন মেরামত করতে বিভিন্ন হাট বাজারে মিস্ত্রী বসতো। গ্রামের প্রতিটি বাজারে ছিল হারিকেন মেরামত করার অস্থায়ী দোকান। তারা বিভিন্ন হাট বাজার ঘুরে ঘুরে হারিকেন মেরামতের কাজ করতেন। এছাড়া অনেকে গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে গিয়েও হারিকেন মেরামত করতেন। কিন্তু এখন আর হারিকেনের ব্যবহার তেমন একটা না থাকার ফলে হারিকেন মিস্ত্রীদেরও আর দেখা যায় না।

একসময় ছিলো যখন গ্রামের দোকানে কেরোসিন বিক্রির লাইন পরতো মাগরিবের নামাজের আগে, কেননা মহিলারা সন্ধ্যার আগেই হারিকেন প্রস্তুত করতো। রাত জেগে ধান ভানতো, ঢেঁকি চালাতো এই হারিকেনের আলোয়। তেল যখন কমে আসতো তখন দেখা যেত আলোও কমে আসছে। তেলের উপর নির্ভর করতো আলোর পরিমাণ। কিন্তু আজ অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত হ্নদয় নিয়ে বলতে হয় এক সময়ের আঁধারে আলোর সাথী হারিকেন বিদ্যুতের দাপটে হারিয়ে গেছে।এখন আর হারিকেন দেখা যায় না। ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে বিদ্যুৎ। রাস্তা-ঘাট, হাঁট-বাজারে এখন বিদ্যুতের দাপট। বিজ্ঞানের এই আবিষ্কার নিঃসন্দেহে জাতির কল্যাণ বয়ে এনেছে। তবে হারিয়ে গেছে আমাদের ঐতিহ্য ও ইতিহাস।

গ্রামের পর গ্রাম এখন বিদ্যুতের আলোতে আলোকিত হয়ে গেছে। বিদ্যুতের ঝলকানিতে অজ পাড়া গ্রাম গুলো এখন পল্লী শহরে রুপান্তরিত হয়েছে। কাজেই সেকালের ঐতিহ্যবাহী হারিকেনের আলোর প্রয়োজন আর প্রয়োজন হচ্ছে না।বর্তমানে বৈদ্যুতিক বাতির ব্যাপক প্রসারে কমে গেছে হারিকেনের চল। এরই ধারাবাহিকতায় সারাদেশের মতো কালের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে হারিকেন। বিদ্যুতের প্রসার, বিদ্যুৎ চলে গেলে বিভিন্ন ধরনের চার্জার বাতির ব্যবহারে হারিকেনের তেমন একটা প্রয়োজন হয় না। তাই হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী হারিকেন।

এক সময় দেখা যেতো হারিকেন হাতে নিয়ে ডাকপিয়ন ছুটে চলেছেন গ্রামের পর গ্রামে। বৃদ্ধ থেকে শুরু করে সবাই রাতের বেলাই হারিকেন হাতে নিয়ে বের হতেন। হারিকেনের আলো গৃহস্থালির পাশাপাশি ব্যবহার হতো বিভিন্ন যানবাহনে। কিন্তু আধুনিকায়নে বিভিন্ন বৈদ্যুতিক বাতিতে বাজার ভরপুর। যার কারণে হারিয়ে যাচ্ছে রাত্রিকালীন আলোর একমাত্র উৎস ঐতিহ্যবাহী হারিকেন।

ওই সময় গ্রাম বাংলার মানুষ বিভিন্ন পদ্ধতিতে আলো জালাতো তার ভিতর হারিকেন ছিল সব থেকে বেশি প্রচলিত তার পাশাপাশি ,হ্যাসাক লাইট, কুপি (লম্প) লন্ঠন এ গুলো আলোর জন্য ব্যবহার করত বর্তমান বিজ্ঞানের যুগে এসে বিলুপ্ত হয়ে গেছে কালের সাক্ষী হারিকেন যা এখন আর চোখে পড়ে না, যদিও দেখা যায় সেটা ময়লা আবর্জনায়, গোয়াল ঘরে, নয়তো গাছের ডালে অনাদরে ঝুলছে যা এক সময় প্রতিদিন সন্ধ্যায় ঘরে ঘরে আলো জালানোর জন্য ব্যবহার করা হত, জালানোর আগে যত সহকারে কাপড় দিয়ে মুছে পরিষ্কার করে আলো জালানো হত।

অনেক আগে থেকে মানুষ লন্ঠন কুপি আলো জালানোর কাজে ব্যবহার করত। তারপর হারিকেন আবিষ্কার হলে অনান্য আলোর কদর কমে হারিকেনের কদর বেড়ে গেল ওই সময় বিভিন্ন কোম্পানির হারিকেন তৈরি হলেও সব থেকে বায়োজিদ হারিকেনের বেশী কদর ছিল দামও ছিল বেশি পাড়ার কেহ হারিকেন কিনলে মানুষ দেখতে যেত, তারপর তৎকালিন প্রযুক্তিতে হ্যাছাক লাইট তৈরি হলে সেটার মূল্য বেশী হওয়ায় সবাই কিনতে পারতো না। তা ছাড়া সেটা শুধু মাত্র বিয়ের বাড়ি গান বাজনা সহ বিভিন্ন বড় বড় অনুষ্ঠানে ব্যবহার করা হত কিন্তু হারিকেন সর্বকাজে আলোর প্রয়োজনে ব্যবহার করত, তা ছাড়া ডাকপিয়নরা চিঠির বস্তা পিঠে নিয়ে রাতে দিনে ছুটে বেড়াতো কিন্তু হারিকেন থাকতো সাথে রাতের আধারে পথ চলার জন্য।

লেখাপড়ার জন্য হারিকেনের আলো ছিল উত্তম কারন হারিকেনের আলো চোখে লাগতো না তাতে চোখের কোন রকম ক্ষতি হত না। হারিকেন জালানোর জন্য কেরোসিন ব্যবহার করত। ওই হারিকেনে কাঁচের চিবনি ছিল যে কারনে প্রবল ঝড় বাদলে বাতাস ঢুকে হারিকেন নিভে যেতো না। শুধু গ্রামগঞ্জে নয় শহরেও বিদ্যুৎ আসার আগে হারিকেন ব্যবহার করা হত তাছাড়া আশির দশকের দিকেও জেলখানার পাহারা দেয়ার জন্য জেল পুলিশরা হাতে হারিকেন নিয়ে প্রবেশ করত সারারাত হারিকেন হাতে নিয়ে পাহারা দিত।

৫-৬ ইঞ্চি লম্বা ও কিছুটা ছড়াকারের মত এক ধরনের কাপড় ফিতা বা রেশা হিসেবে ব্যবহার করা হতো। আলো কমানো ও বাড়ানোর জন্য নির্দিষ্ট একটি গিয়ার ছিল।হাতে সাহায্যে তা ঘুরিয়ে আলোর গতিবেগ কমানো ও বাড়ানো যেতো

সংবাদটি শেয়ার করুন


এই বিভাগ থেকে পড়ুন