fbpx
সংবাদ শিরোনাম
ফল প্রকাশে অটোমেশন প্রক্রিয়ার উদ্বোধন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ: ১ জনকে হলত্যাগ ও ২ জনের ছাত্রত্ব বাতিলের সুপারিশ শার্শায় ফসলি জমির মাটি বিক্রির সিন্ডিকেট বেপরোয়া, জড়িত খোদ ইউপি সদস্যরা পাইকগাছায় ঘূর্নিঝড় রেমালের প্রভাবে নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি : মারাত্মক ঝুঁকিতে ২টি ভেড়িবাঁধ স্বতন্ত্র বেতনস্কেল প্রবর্তনের দাবিতে নোবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন রাবিতে প্রথমবারের মতো ‘ইনোভেশন শোকেসিং’ অনুষ্ঠিত জবির ফিচার, কলাম অ্যান্ড কনটেন্ট রাইটার্সের নেতৃত্বে মুনতাহা-শাহরিয়ার উচ্চশিক্ষা নিয়ে রাবিতে সেমিনার অনুষ্ঠিত শ্রেষ্ঠ উদ্ভাবনী উদ্যোগের জন্য নির্বাচিত দপ্তর-সংস্থার মাঝে শিল্পমন্ত্রীর সনদ বিতরণ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বজনীন পেনশন নীতিমালা প্রত্যাহারের দাবিতে শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন

উপেক্ষিত সত্তা | মাবিয়া নওশীন 

                                           
শাবলু শাহাবউদ্দিন
প্রকাশ : শুক্রবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

উপেক্ষিত সত্তা

মাবিয়া নওশীন

 

প্রত্যহ রেলস্টেশনের ফুটপাত দিয়ে যাওয়ার সময় এক বৃদ্ধ মহিলাকে দেখতাম জীর্ণশীর্ণ দেহটাকে নিয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছে।বেকারত্ব জীবনের সংগ্রাম চলছিলো তখনো, সকাল থেকে দুপুর এদিক ওদিক চাকুরী খোঁজা, বিকেলে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতাম স্টেশন চত্বরটা খুবই পরিচিত,এখানেই বসে বেকারদের আড্ডাখানা,চা,সিগারেটের সাথে জমে উঠতো ব্যর্থতার গল্প। বৃদ্ধার নিয়মিত কাজ ভিক্ষা করা। জীবন সংসারে কেউ কারো খোঁজ রাখেনা।বৃদ্ধার করুণ অভিব্যক্তি এমনটাই জানান দিতো। সাধ্যের ভিতরে কিছু দেওয়ার চেষ্টা করতাম।মাঝে মাঝে দেখতাম কি যেন বিড়বিড় করে বলছে। তখন দু-এক টাকার পয়সাগুলো মূল্যহীন মনে হতো তার কাছে। তাকে দেখে মনে হত সে ছিল খানিকটা মানসিক ভারসাম্যহীন ।সেই ছোটবেলা থেকে আমি তাকে দেখে দেখে বড় হয়েছি।কেন জানি খুবই আপন মনে হতো। মনে হয় মায়ারবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে গেছি তার সাথে।

এমনি ভাবে কেটে যাচ্ছিলো দিনগুলো। আড্ডা আর নতুন চাকুরীর পরীক্ষার পিছে ছুটে চলা। ভাগ্য প্রসন্ন হল, আমার চাকরিটা হয়ে গেছে। ট্রেনিং এর জন্য শহরের বাহিরে যেতে হলো। আজ বহুমাস পর বাড়ির পথে আগমন।ব্যস্ততা ও পরিবারের জন্য তেমন একটা বের হতে পারিনা।যার দরুন আড্ডা দেওয়ার জন্য রেলস্টেশনে যাওয়া হয়ে উঠেনি, আর বৃদ্ধটিও অগোচরে রয়ে গেলো এতটা মাস।
গতকাল রাতে বন্ধু লিমন কল দিয়ে বলল আজ যেন আড্ডাখানায় হাজিরা দিয়ে আসি,তার কথা রাখার জন্য বিকালের দিকে পায়ে হেঁটে রওনা দিলাম স্টেশন চত্বরে।পরিবেশটা ঠিক আগের মতোই,তবে বৃদ্ধাকে দেখতে পেলাম স্টেশন মাস্টারের রুমের সামনে বসে আছে-কাগজে কি যেন দেখছে। বলে রাখা ভালো গতকাল বিজয় দিবস ছিলো,তাই পত্রিকায় বিজয় দিবস নিয়ে বহু লেখা হয়েছে,শহিদ ও বীরাঙ্গনাদের নাম উঠে এসেছে বহুবার।এমনই কিছু দেখছে বৃদ্ধাটি-এর মধ্যে বন্ধু লিমন এসে পরলো,কুশল বিনিময়ের পর কৌতূহল বশত বৃদ্ধার বর্তমান হালচাল জানতে চাইলাম। লিমন বলতে লাগল, দুইদিন ধরে বৃদ্ধাটি কেমন জানি আচরণ করছে,আগের চেয়ে বেশি বিড়বিড় করে শব্দ উচ্চারণ করতে থাকে,পত্রিকার ছবি গুলো দেখিয়ে বেড়ায় মানুষকে,চিৎকার করে কান্না করে আবার হঠাৎ জোরে জোরে হাসতে শুরু করে।

হঠাৎ খেয়াল করলাম,স্টেশনের রেলওয়ে পুলিশকে দেখে সে চিৎকার করতে করতে পাথর এনে ছুড়তে লাগল।আজকের এমন আচরণটি আমায় ভাবিয়ে তুলল,পুলিশ দেখে বৃদ্ধার এমন আচরণের কারণ কি? আমি আগেও বলেছি তার প্রতি কেন জানি একটা মায়া কাজ করতো,তাই এমন আচরণের সুরাহা না করা পর্যন্ত স্থির থাকতে পারলাম না।খোঁজ নিতে থাকলাম, যদি কিছু জানতে পারি এই আশায়।স্টেশনের সবচেয়ে প্রবীণ মানুষ রহিম চাচা।৪০-৫০ বছর ধরে স্টেশনে চা বিক্রি করে। সকল কিছুই তার জানাশুনা।চাচার কাছে গিয়ে খোঁজ নিলাম।চাচা বলতে লাগল, তার একটি মেয়ে আছে নাম রানু।তবে বৃদ্ধাটি তার মেয়েকে চিনে না। মেয়ে বলে মানে না,ভয় পায় তাকে দেখলে। মাঝে মাঝে রানু আসে তার মায়ের খোঁজ নেয়-আমার এখানে আসে গল্প বলে তার মায়ের, আমাকে তার মাকে দেখতে বলে। অঝোরে কান্না করে চলে যায়। স্বামীও সন্তান নিয়ে আসে মাঝে মাঝে।বহুবছর খোঁজার পর রানু তার মাকে চিনতে পেরেছিলো কিন্তু ভাগ্য তাদের দূরে রেখেছে।

সে বলল অনেক বছর আগের কথা তার নানীর কাছ থেকে সে সব জানতে পেরেছে।তার মা ছোটবেলা থেকেই অনেক শান্ত স্বভাবের ছিল।মধ্যবিত্ত পরিবারে সে বড় হচ্ছিলো।১৯৬৩সালে তার বিয়ে হয়। যখন তার বয়স মাত্র ১৫ বছর। ভালোই চলছিল তার সংসার। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তার মেয়ে রুনা, বয়স ছিল মাত্র ৬ বছর। আর তার ছেলে রিপন, বয়স ছিলো মাত্র ৫ বছর। সেই সময় তার স্বামী তাদের রেখে ভারতে চলে যায়।মুক্তিযুদ্ধের সময় ফজিলা তার ২ সন্তান তার মা ও ছোট বোন ফিরোজাকে নিয়ে নিজ বাড়িতেই অবস্থান করছিলো। স্থানীয় রাজাকারের সহায়তায় পাকিস্তানি বাহিনীরা ফজিলাদের বাড়িতে হামলা করে। পাকিস্তানের নরপশুরা বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। ফজিলা আর তার ছোট বোন ফিরোজা কে টেনে হিচড়ে নিয়ে যায় পাকিস্তানি ক্যাম্পে। তাদের মা পাকবাহিনীদের বাঁধা দিলে পাকবাহিনীরা তাকে জোরে ধাক্কা দেয়। তার মাথা ফেটে রক্ত পড়তে থাকে। ফজিলা অনেক অনুনয় বিনয় করে পাকবাহিনীদের কাছে। ফিরোজাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য কিন্তু তারা শুনেনি ফজিলার কথা। ক্যাম্পে অন্তসত্ত্বা, গৃহবধূ, বিধবা,বয়স্ক কেউ রেহাই পেত না তাদের ধর্ষণের হাত থেকে। তাদের মধ্য অনেক কে আবার তাদের পরিবারের সামনেই ধর্ষণ করা হত।

না খেতে পেরে অসুস্থ হয়ে মারা যায় রিপন। রুনা আর তার নানী একা হয়ে পরে।বিকৃত পশুরা ক্যাম্পে সবসময় ফজিলা আর ফিরোজাকে অত্যাচার করতো। পাকবাহিনীর অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে অনেক দুর্বল হয়ে যায় ফিরোজা। ক্যাম্পে যারা দুর্বল হয়ে যেত তাদেরকে আবার গুলি করে মেরে ফেলা হত বাদ যায়নি ফিরোজাও। চারদিক থেকে লাশের গন্ধ , চিৎকার,আতনার্দ গুলির আওয়াজ ভেসে আসতো।রাতে পাকবাহিনীরা নিকৃষ্ট আমোদ খেলায় মেতে উঠতো। হঠাৎ মুক্তিবাহিনীরা বারুদ বিস্ফোরণ করে পাকিস্তানি ক্যাম্পকে উড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়। সেদিন ফজিলার মত হাজারো নারী তাদের হাত থেকে বেঁচে যায়।

ফজিলা ভেবেছিল স্বাধীন বাংলাদেশে সে মুক্ত বাতাসে মুক্ত বিহঙ্গের মত উড়বে কিন্তু সে তো জানে না এই বায়ু এখন বিষাক্ত বায়ুতে পরিণত হয়েছে। পাকিস্তানি হানাদারদের ক্যাম্প থেকে মুক্ত হলেও এবার সামাজিক ও পারিবারিক নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয় তাকে। এরইমধ্যে ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে ঢাকায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়।যুদ্ধ শেষ হলেও ফজিলার জীবনে শুরু হয় যুদ্ধ পরবর্তী জীবন যুদ্ধ। তার এই যুদ্ধ এতই করুণ যে, কল্পনাকেও হার মানায়। শ্বশুর বাড়িতে নষ্টা, ভ্রষ্টা, অসতী হিসেবে আখ্যায়িত হয়। ফজিলা ক্যাম্প থেকে ফেরার পর ফজিলাকে পরিবার সমাজ কেউ মেনে নিতে পারেনি। অনেক তুচ্ছ তাছিল্য অপমান সহ্য করতে হয়েছে তাকে। ফজিলার স্বামীও তার ব্যাতিক্রম নয় তিনিও তাকে মেনে নেয়নি। অপমান করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিল । ফজিলা এর পর দ্বিতীয় বিয়ে করেছিলো। নতুন করে বাঁচতে চেয়েছিল করিম নামের এক ছেলেকে নিয়ে। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস করিম ও তাকে কিছু টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেয় যৌন পল্লীতে। সেখান থেকে কোনমতে জীবন নিয়ে পালিয়ে আসে ফজিলা, আস্তে আস্তে ফজিলা মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে।

রুনা তার মাকে তালাশ করতে থাকে অনেক বছর ধরে অবশেষে সে পেয়ে গেল তার মাকে।রুনার মার গল্প শুনে আমি বলে উঠলাম দেশ স্বাধীন হয়েছে ঠিকই কিন্তু ফজিলার মত মানুষরা আজও স্বাধীন হতে পারেনি। খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম বহু মা আজ বীরাঙ্গার খেতাবে ভূষিত হয়েছে। কিন্তু সমাজের অগোচরে,রাষ্ট্রের অগোচরে থেকে গেছে ফজিলা,মিলেনি স্বীকৃতি তবে সমাজে পরিবারে ঠিকই পাগল উপাধিতে ভূষিত হয়ে মরার ক্ষণ গুনছে।ফজিলাদের মত আরও অনেক নারী তাদের স্ববর্স নিঃস্ব করে আমাদের উপহার দিয়েছে লাল সবুজের পতাকা। কিন্তু তারাই আজ চিকিৎসার অভাবে মারা যাচ্ছে, ভিক্ষা করে, স্বীকৃতিহীন।ফজিলার মত আরো কত ফজিলা মারা যাচ্ছে মানুষের অগোচরে। আমরা আজ তাদের বিলিয়ে দেওয়া সম্মানের কাপড়ে পতাকা বানিয়ে স্বাধীকারের কেতন তুলি,তবে আমরা কি পেরেছি তাদের সম্মান দিতে?
তাদের পরিবারকে মেনে নিয়েছে এমন ত্যাগ?
না,
আমরা সম্মান দিতে পারিনি-
যার দরুন ফজিলারা মরেছে রাস্তায় রাস্তায়।
চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি,ফজিলার দিকে ছলছল নয়নে কিছুক্ষণ তাকিয়ে বাড়ির পথে রওনা দিলাম,
আর ভাবতে লাগলাম ফজিলাদের ত্যাগের মাধ্যমেইতো আমরা বিজয়ের গান গাই-
এই বিজয়টা ফজিলাদের জন্য উৎসর্গ করে বিনম্র শ্রদ্ধায় তাদের স্মরণ করছি।

সে বলল অনেক বছর আগের কথা তার নানীর কাছ থেকে সে সব জানতে পেরেছে।তার মা ছোটবেলা থেকেই অনেক শান্ত স্বভাবের ছিল।মধ্যবিত্ত পরিবারে সে বড় হচ্ছিলো।১৯৬৩সালে তার বিয়ে হয়। যখন তার বয়স মাত্র ১৫ বছর। ভালোই চলছিল তার সংসার। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তার মেয়ে রুনা, বয়স ছিল মাত্র ৬ বছর। আর তার ছেলে রিপন, বয়স ছিলো মাত্র ৫ বছর। সেই সময় তার স্বামী তাদের রেখে ভারতে চলে যায়।মুক্তিযুদ্ধের সময় ফজিলা তার ২ সন্তান তার মা ও ছোট বোন ফিরোজাকে নিয়ে নিজ বাড়িতেই অবস্থান করছিলো। স্থানীয় রাজাকারের সহায়তায় পাকিস্তানি বাহিনীরা ফজিলাদের বাড়িতে হামলা করে। পাকিস্তানের নরপশুরা বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। ফজিলা আর তার ছোট বোন ফিরোজা কে টেনে হিচড়ে নিয়ে যায় পাকিস্তানি ক্যাম্পে। তাদের মা পাকবাহিনীদের বাঁধা দিলে পাকবাহিনীরা তাকে জোরে ধাক্কা দেয়। তার মাথা ফেটে রক্ত পড়তে থাকে। ফজিলা অনেক অনুনয় বিনয় করে পাকবাহিনীদের কাছে। ফিরোজাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য কিন্তু তারা শুনেনি ফজিলার কথা। ক্যাম্পে অন্তসত্ত্বা, গৃহবধূ, বিধবা,বয়স্ক কেউ রেহাই পেত না তাদের ধর্ষণের হাত থেকে। তাদের মধ্য অনেক কে আবার তাদের পরিবারের সামনেই ধর্ষণ করা হত।

না খেতে পেরে অসুস্থ হয়ে মারা যায় রিপন। রুনা আর তার নানী একা হয়ে পরে।বিকৃত পশুরা ক্যাম্পে সবসময় ফজিলা আর ফিরোজাকে অত্যাচার করতো। পাকবাহিনীর অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে অনেক দুর্বল হয়ে যায় ফিরোজা। ক্যাম্পে যারা দুর্বল হয়ে যেত তাদেরকে আবার গুলি করে মেরে ফেলা হত বাদ যায়নি ফিরোজাও। চারদিক থেকে লাশের গন্ধ , চিৎকার,আতনার্দ গুলির আওয়াজ ভেসে আসতো।রাতে পাকবাহিনীরা নিকৃষ্ট আমোদ খেলায় মেতে উঠতো। হঠাৎ মুক্তিবাহিনীরা বারুদ বিস্ফোরণ করে পাকিস্তানি ক্যাম্পকে উড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়। সেদিন ফজিলার মত হাজারো নারী তাদের হাত থেকে বেঁচে যায়।

ফজিলা ভেবেছিল স্বাধীন বাংলাদেশে সে মুক্ত বাতাসে মুক্ত বিহঙ্গের মত উড়বে কিন্তু সে তো জানে না এই বায়ু এখন বিষাক্ত বায়ুতে পরিণত হয়েছে। পাকিস্তানি হানাদারদের ক্যাম্প থেকে মুক্ত হলেও এবার সামাজিক ও পারিবারিক নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয় তাকে। এরইমধ্যে ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে ঢাকায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়।যুদ্ধ শেষ হলেও ফজিলার জীবনে শুরু হয় যুদ্ধ পরবর্তী জীবন যুদ্ধ। তার এই যুদ্ধ এতই করুণ যে, কল্পনাকেও হার মানায়। শ্বশুর বাড়িতে নষ্টা, ভ্রষ্টা, অসতী হিসেবে আখ্যায়িত হয়। ফজিলা ক্যাম্প থেকে ফেরার পর ফজিলাকে পরিবার সমাজ কেউ মেনে নিতে পারেনি। অনেক তুচ্ছ তাছিল্য অপমান সহ্য করতে হয়েছে তাকে। ফজিলার স্বামীও তার ব্যাতিক্রম নয় তিনিও তাকে মেনে নেয়নি। অপমান করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিল । ফজিলা এর পর দ্বিতীয় বিয়ে করেছিলো। নতুন করে বাঁচতে চেয়েছিল করিম নামের এক ছেলেকে নিয়ে। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস করিম ও তাকে কিছু টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেয় যৌন পল্লীতে। সেখান থেকে কোনমতে জীবন নিয়ে পালিয়ে আসে ফজিলা, আস্তে আস্তে ফজিলা মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে।

সংবাদটি শেয়ার করুন


এই বিভাগ থেকে পড়ুন